Launched হলো রেডমি K30 সিরিজ। আমাদের হাতে চলে এসেছে সুন্দর দেখতে এই Redmi K30। রেডমি K30 এর 4G ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে এভেইলেবেল বর্তমানে। এর আর একটা ভ্যারিয়েন্ট 5G এখনো দেশে আসে নি। Redmi K30 Price in Bangladesh

রেডমি K20 প্রচুর সাকসেসফুল একটা ডিভাইস ছিলো বোথ গ্লোবাল এন্ড চাইনিজ ভাবে। তো Redmi K30 এর জন্যে প্রচুর হাই এক্সপেক্টেশন্স আছে আমাদের। তো দেখা যাক Redmi K30 কতটা ডেলিভার করতে পারে আমাদের।

টেক জার্নাল বিডি থেকে আমি আছি আয়ান আহরান শ্রাবণ, তুলে ধরবো Redmi K30 এর খারাপ দিক এবং ভালো দিকগুলো।

প্রথমেই আসা যাক চার্জার এবং ব্যাটারির দিকে।

Redmi K30 এর বক্সে দেয়া হয়েছে ২৭ ওয়াট এর একটি ফাস্ট চার্জিং এডাপ্টার। এটা খুবই ভালো দিক। এর ৪৫০০ এমএএইচ এর ব্যাটারি ফুল চার্জ হয়ে যায় ১ ঘন্টা থেকে ১ ঘন্টা দশ মিনিটের মধ্যেই।
চার্জিং স্পিড নিয়ে আমি সন্তুষ্ট সাথে ব্যাটারি ব্যাকাপ নিয়েও।

Redmi K30 এর সবচেয়ে ইউনক দিক হচ্ছে এর 120 Hz এর রিফ্রেশ রেট এর ডিসপ্লে। রেগুলার ৬০ হার্জ এর ডিসপ্লে রেটে ব্যাবহার করলে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ব্যাটারি ব্যাকাপ পেয়ে যাবেন হ্যাভি ইউসে।

তবে 120 Hz এ ভালো ব্যাটারি ড্রেন হয় সেক্ষেত্রে ব্যাটারি ব্যাকাপ ছয় ঘন্টা পাই নি আমরা। আর ফোনটা wireless চার্জিং সাপোর্ট করে না।

ডিজাইন :

তারপর চলে যায় এর ডিজাইন এর দিকে। আমাদের হাতে আছে ব্লু, কিন্তু আরও আছে রেড এবং ভায়োলেট কালারে। ভায়োলেট কালার টা আমাদের কাছে সবথেকে বেস্ট লেগেছে। গ্লাস ব্যাক প্যানেল হুওায়ে মেট ৩০ এর কথা মনে করিয়ে দেবে নিশ্চিন্তে।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর সাইড মাউন্টেড। আনলক স্পিড যথেষ্ট ভালো এবং খুব দ্রুত। পজিশন টাও কনভিনিয়েন্ট। কিন্তু সেন্সর জায়গায় আর একটু ওয়েল ফিনিশ্ড হইলে ব্যাটার একটা হ্যান্ড ফীল পেতাম।

হাইব্রিড সিম স্লট দেয়া হয়েছে। আছে এতে ৩.৫ mm ইয়ারফোন জ্যাক পোর্ট এবং বটম ফায়ারিল লাইউড স্পিকার।

ডিসপ্লে :

সামনে পাবেন ফুল ভিউ পাংচুয়াল ডিসপ্লে, বিল্ড কোয়ালিটি ভালোই। ডিজাইনও সবার পছন্দ হবে। তবে ২০৮ গ্রাম ওজন হওয়ায় অনেকের কাছে আনক্মফোর্টেবল লাগতে পারে।

তবে সমস্যা হচ্ছে ডিসপ্লেতে। 6.67 inch আইপিএস প্যানেলে ফুল এইচডি প্লাস রেজুলেশনে এইচডিআর ১০ সাপোর্টেড প্যানেল। কর্ণিল গরিলা গ্লাস ফাইভ দ্বারা প্রটেকটেড।

120 Hz রেট দিতে গিয়ে তারা ডিসপ্লে ডাউন রেট হয়ে নেমে আসলো আইপিএসে।

বর্তমানে বাজারে এই বাজেটে কিংবা এর থেকে কম বাজেটে oled ডিসপ্লে খুব কমন একটা ব্যপার হয়ে গেছে। তো এখানে আইপিএস ডিসপ্লে খুবই বেমানান।

আইপিএস প্যানেল হিসেবে মোটামুটি ভালোই প্যানেল এটা। কিন্তু অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহারকারী করতে করতে এমন একটা ডিসপ্লে ব্যাবহার করতে কেমন একটা নির্জীব লাগছে।

যদিও স্ক্রীনে কালার, কন্ট্রাস্টে বা সার্পনেসে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এই বাজেটে 120 Hz রিফ্রেশ রেট যতটা না আকর্ষণীয় তার বীপ‌রিতে এমন একটা ডিসপ্লে মনটা একটু খারাপ করেই দেয়।

তো কথা বলা যাক 120 Hz রিফ্রেশ রেট নিয়ে। হাইয়ার রিফ্রেশ রেট খুব উপভোগনীয় ফোন ব্রাউজিং এর সময়। অলরেডি ৯০ হার্জ রিফ্রেশ রেট কমন হয়ে যাচ্ছে ফ্ল্যাগশিপ ফোনে। শাওমি মিড রেঞ্জে এই রিফ্রেশ রেট প্রবেশ করিয়ে আমাদের জন্যে বেশ সুবিধা করলো।

হার্ডওয়্যার:

চলে যাই ফোনের ভিতরে হার্ডওয়্যার দেখতে। স্ন্যাপড্রাগন ৭৩০ জি। বেশ ক্যাপবল চিপসেট মিড রেঞ্জের ফোনের জন্যে। যে কোনো হাই সেটিংসের গেম খেলতে পারবেন স্মুথলি। যেসব গেমের অপটিমাইজেশন দুর্বল সেগুলো কিছুটা হিক্যাপ বা ফ্রেম ড্রপ লক্ষ্য করা যায়, একদম ইনসেট গেমার বাদে সবাইকে স্যাটিসফাইড করতে পারবে স্ন্যাপড্রাগন এই 730 G.

বেশ কয়েকটা Ram ভ্যারিয়েন্ট আছে এই ফোনে।

  • 64 gb rom 6 gb ram
  • 128 gb rom 6 gb ram
  • 128 gb rom 8 gb ram
  • 256 gb rom 8 ram
  • Ufs2.1 স্টোরেজ আছে

যা আমাদের জন্যে অত্যন্ত খুশির সংবাদ।

স্পিকার:

সিঙ্গেল ফায়ারিং লাউড স্পিকার বেশ ভালো, সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ ভালো এবং যথেষ্ট স্মুথ।

বাদ বাকি আরও কিছু তথ্য দিয়ে নেই আপনাদের।
১. ডিআরএল থ্রি লাইসেন্স। যেহেতু চাইনিজ রম তাই কোনো প্রকার এইচডি স্ট্রিমিং হবে না।
২. জি ক্যামে ফুল সাপোর্ট পাচ্ছেন।
৩. এ্যাপটেক্স জিপিএ সাপোর্ট।
৪. জিপিএস ইস্যু টা ফেস করতে হবে। কয়দিন পর ফিক্সড করে নিলে আবার প্রবলেম ফিক্সড হয়ে যায়।
৫. অনেক গেমই পাংচুয়াল এর শেষ পর্যন্ত কেটে ফেলে।

Redmi K30 Price in Bangladesh

ক্যামেরা:

তো সব শেষে বাকী থাকে ক্যামেরা। চলুন ক্যামেরা নিয়ে কথা বলা যাক

ক্যামেরা স্পেসিফিকেশন

64 MP, f/1.9, 26mm (wide), 1/1.7″, 0.8µm, PDAF
8 MP, f/2.2, 13mm (ultrawide), 1/4.0″, 1.12µm
2 MP, f/2.4, 1/5″, 1.75µm (dedicated macro camera)
2 MP, f/2.4, 1/5″, 1.75µm, depth sensor

মোট ছয়টি ক্যামেরা থাকছে এই ফোনে। পিছনে প্রাইমারি সনি আই ম্যাক্স ৬৮৬, বর্তমানের জাতীয় 64 মেগা পিক্সেলের সনি ভার্সন। স্বভাবতই স্যামসাং এর ৬৪ মেগা পিক্সেল এর সেন্সর থেক এটার ইমেজ একটু বেশি শার্প হওয়ার কথা কিন্তু আমার কাছে বর্তমানে তা লাগছে না। আমার কাছে একই লাগছে রিয়েলমি ২ এর ছবির সালথা কোম্প্যায়ার করে। জাস্ট বেটার অপটিমাইজেশন প্রয়োজন।

প্রাইমারি ক্যামেরার ডে-লাইট ছবি গুলো বেশ ভালো, কালরফুল এবং ডায়নামিক রেঞ্জ টা ভালোই ধরে রাখতে পেরেছে। ওভারঅল একটা ওয়ার্ম টেম্পারেচার আসে ছবিগুলোতে।

ডেলাইট পিকচার গুলো বেশ ঠিকঠাক, ব্যাক্তিগত ভাবে ভালো বলবো আমি।

লো লাইটে পরিস্থিতি গুলো বেশি ভিন্ন। স্পেশাল কিছু দেখাতে পারেনি তারা। আলো কম পেলে ডিজিটাল নয়েজ চলে আসে প্রচুর। ডেডিকেটেড নাইট মোড আছে। কিছুটা সার্প উজ্জ্বল ছবি পাবেন সেক্ষেত্রে। ক্লোজটু ন্যাচারাল করতে গিয়ে খুব বেশি আলোকিত করে ফেলে না নাইট মোডে।

পিছনে আরও।বাকী তিনটা ক্যামেরা। আল্ট্রা ওয়াইড ৮ মেগা পিক্সেল ক্যামেরার পার্ফর্মেন্স বেশ ভালো লেগেছে। আপনারাতো জানেনই, এই রেঞ্জের আল্ট্রা ওগাইড ক্যামেরা দিনের বেলা জোশ ছবি দিলে আলস কমলে হালুয়া টাইট।

আরও থাকছে একটা ডেডিকেটেড ম্যাক্রো লেন্স এবং আর একটি ডেপথ সেন্সর। দুটোই ২ মেগা পিক্সেলের।

ম্যাক্রো লেন্সের পার্ফরমেন্স খুব রেগুলার হলেও পোট্রেট ছবি গুলা বেশ ভালো ছিলো, ব্লার খুব ভালো এবং মোজামুটি একুরেট ছিলো।

ভিডিওতে প্রাইমারি ক্যামেরাতে 4k@30 FPS থাকসে। ইআইএস থাকায় ভালো স্ট্যাবিলাইজ ভিডিও পাবেন। ভিডিও কোয়ালিটি বেশ ভালো।

ক্যামেরায় থাকছে ব্লগ মোড, যা পার্সোনালই আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।

সামনের দুটি পাংচুয়ালে দুটি ক্যামেরা। একটা ২০ মেগা পিক্সেল অন্যটি ২ মেগা পিক্সেল এর।

ফ্রন্ট ক্যামেরার ছবি বেশ ভালো, ভালো আলো পাচ্ছিলো, বেশ কালারফুল। বেশ সার্প সেল্ফি উঠে। যদিও ব্যাকগ্রাউন্ড ওভার এক্সপোজ করার ব্যারাম আছে।

Redmi K30 Price in Bangladesh

প্রাইজ :

এই ছিলো Redmi K30 এর বিস্তারিত। এর মূল আলোচ্য বিষয় হলো এর প্রাইজ।

বর্তমানে চায়নাতে এই ফোনটি বেজ ভ্যারিয়েন্ট স্টার্ট হচ্ছে ১৬০০ ইউরো থেকে। ভারতীয় রুপিতে কনভার্ট করলে ১৬০০০ রুপিতে আসে।

তো বাংলাদেশে এটার বেজ ভেরিয়েন্ট যেটা 6 gb ram 64 rom শুরু হচ্ছে ২৪০০০ টাকায় অফিসিয়ালি। আর একটা ভেরিয়েন্ট ৮, ১২৮ জিবি পাওয়া যাচ্ছে ২৯,০০০ টাকায় আন অফিসিয়ালি।

বেজ ভেরিয়েন্টা খুব শীঘ্রই ২১,০০০ টাকায় নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তারমধ্যে ২৩,০০০ টাকায় রিয়েলমি এক্স 2 খুব স্ট্রংলি নিজের পজিশন ধরে রেখেছে।

মানে বলতেই হবে, শাওমি মার্কেট হারাচ্ছে রিয়েলমির কাছে প্রায় সবদিক থেকেই। খুব স্বভাবতই শাওমটির কাছ থেকে এগ্রেসিভ প্রাইজিং আর স্পেশাল কিছু না পাই তাহলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ ছুটছে রিয়েলমির দিকে।

যাই হোক দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়।

Redmi K30 Price in Bangladesh জানতে এখানে ক্লিক করুন…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here